খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু)


🌉 খানজাহান আলী সেতু ভ্রমণ প্রতিবেদন

ভূমিকা

খানজাহান আলী সেতু, যা রূপসা সেতু নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের খুলনা শহরের রূপসা নদীর উপর অবস্থিত একটি অত্যাধুনিক সড়ক সেতু। এটি খুলনাকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যান্য জেলা এবং মংলা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। ২০০৫ সালে উদ্বোধন হওয়া এই সেতু খুলনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প ও পর্যটনে নতুন গতি এনেছে।

কোথায়

এই সেতুটি খুলনা জেলার রূপসা নদীর উপর অবস্থিত। খুলনা শহর থেকে সেতুর দূরত্ব মাত্র ৪–৭ কিলোমিটার। এটি খুলনা শহর ও রূপসা উপজেলার সংযোগ সেতু হিসেবেও পরিচিত।

কেন যাবেন

  • রূপসা নদীর মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
  • ভোর বা বিকেলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অসাধারণ।
  • নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য এটি চমৎকার স্থান।
  • খুলনা শহর ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার পথে এটি আদর্শ স্টপেজ।

কখন যাবেন

ভ্রমণের জন্য শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই সময়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং নদীর দৃশ্য স্বচ্ছভাবে উপভোগ করা যায়। সূর্যাস্তের সময় সেতু ও নদীর আলো-ছায়ার খেলা দেখতে ভুলবেন না।

কীভাবে যাবেন (রুট ধাপে ধাপে)

১. ঢাকা থেকে খুলনা:

  • বাসে: হানিফ, সোহাগ, গ্রীনলাইন, একে ট্রাভেলস প্রভৃতি বাস চলে। সময় লাগে ৭–১০ ঘণ্টা, ভাড়া ৬৫০–১৪০০ টাকা।
  • ট্রেনে: ঢাকা কমলাপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেসে যাওয়া যায়।
    ২. খুলনা শহর থেকে সেতু:
  • সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল বা রেলস্টেশন থেকে অটো, রিকশা বা লোকাল বাসে এম এ বারি রোড হয়ে রূপসা সেতু পর্যন্ত পৌঁছানো যায় (ভাড়া ৫০–২০০ টাকা)।

কী দেখবেন

  • রূপসা নদীর উপর দিয়ে নৌযান ও জাহাজ চলাচলের দৃশ্য।
  • সেতুর স্থাপত্য এবং রাতের বেলায় এর আলোকসজ্জা।
  • সেতুর পাশে স্থানীয় খাবারের দোকান, ফুচকা, চা ও ফাস্টফুড কর্নার।
  • নদীর ধারে হাঁটার জায়গা ও ছোট পার্ক এলাকা।

খরচ

  • ঢাকা → খুলনা বাসভাড়া: ৬৫০–১৪০০ টাকা
  • খুলনা শহর → সেতু যাতায়াত: ৫০–২০০ টাকা
  • খাবার ও অন্যান্য খরচ: ৫০০–১৫০০ টাকা
  • আবাসন (খুলনা শহরে): প্রতি রাত ৬০০–৪০০০ টাকা পর্যন্ত

পরিবহন ও যোগাযোগ

সেতু পর্যন্ত খুলনা শহর থেকে সহজেই রিকশা, অটো বা বাসে যাওয়া যায়। খুলনা শহর দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক ও রেলপথের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ।

খাওয়ার ব্যবস্থা

খুলনা শহর এবং সেতুর আশেপাশে স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ইলিশ, চিংড়ি, শুঁটকি, মিষ্টি ও ফুচকা জনপ্রিয়। সেতুর কাছাকাছি কয়েকটি খাবারের দোকানে নদীর ধারে বসে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যোগাযোগ ও আবাসন

খুলনা শহরে হোটেল সিটি ইন, হোটেল রয়্যাল, হোটেল ক্যাসল সালামসহ বিভিন্ন মানের হোটেল রয়েছে।
সরকারি পর্যটন তথ্য অফিস: খুলনা জেলা প্রশাসন, রূপসা উপজেলা অফিস।

দৃষ্টি আকর্ষণ

সেতুটি খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত। নদীর দুই তীর থেকে সেতুর সৌন্দর্য আলাদা রূপ ধারণ করে, বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময়।

সতর্কতা

  • সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় ট্রাফিকের দিকে খেয়াল রাখুন।
  • রাতে নির্জন স্থানে না যাওয়াই ভালো।
  • নদীর ধারে সাবধানে চলাফেরা করুন, বাচ্চাদের একা যেতে দেবেন না।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

  • শহীদ হাদিস পার্ক, খুলনা
  • প্রেম কানন
  • সুন্দরবন (মংলা রুটে)
  • খানজাহান আলীর মাজার, বাগেরহাট
  • মংলা সমুদ্রবন্দর

টিপস

  1. সকাল বা বিকেলের দিকে যান – আলো ও দৃশ্য দুটোই সুন্দর থাকে।
  2. ভালো মানের ক্যামেরা বা মোবাইল নিয়ে যান; সেতুর দৃশ্য ছবি তোলার জন্য আদর্শ।
  3. আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে যাত্রা করুন।
  4. স্থানীয়দের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন – তারা বেশ সহায়ক।
  5. নদীর পাড়ে চা-পানের অভিজ্ঞতা নিন, খুলনার “চা” বিখ্যাত।

📌 সংক্ষিপ্ত তথ্য

নাম: খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু)
অবস্থান: রূপসা নদীর উপর, খুলনা জেলা
দৈর্ঘ্য: প্রায় ১.৩৬ কিলোমিটার
উদ্বোধন: ২০০৫ সাল
গুরুত্ব: খুলনা-মংলা মহাসড়কের প্রধান সংযোগ সেতু




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *