নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সম্পর্কিত তথ্যাবলি :
আলিবর্দি খাঁ
বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার নবাব।
প্রকৃত নাম মির্জা মুহাম্মদ আলি।
সিরাজউদ্দৌলার নানা।
সিরাজউদ্দৌলা
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের কেন্দ্রীয় ও নায়ক চরিত্র।
পিতা জয়নুদ্দিন ও মাতা আমিনা বেগমের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
জন্মগ্রহণ করেন ১৭৩৩ সালে।
সিংহাসনে আরোহণ করেন ১৭৫৬ সালে (২৩ বছর বয়সে)।
দেশ রক্ষার স্বার্থে মিরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ ও উমিচাঁদকে পবিত্র কোরান এবং তুলসী গঙ্গাজল ছুঁইয়ে শপথ করান।
কলকাতা অভিযান করে ইংরেজদের দুর্গ ধ্বংস করেন।
কলকাতার নাম পরিবর্তন করে রাখেন আলিনগর।
আমিনা বেগম
নবাব আলিবর্দি খাঁর কনিষ্ঠ কন্যা।
সিরাজউদ্দৌলার মাতা।
তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সিরাজ, কনিষ্ঠ পুত্র মির্জা মাহদি।
ঘসেটি বেগম
নবাব আলিবর্দি খাঁর প্রথম কন্যা।
সিরাজউদ্দৌলার খালা এবং শওকতজঙ্গের পালক মাতা।
সিরাজকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তবে সিরাজের নজরবন্দি ছিলেন।
আমির অমাত্য সেনাপতিদের সমর্থন আদায়ে টাকা খরচ করেন এবং রাজা রাজবল্লভের সহায়তা নেন।
তিনি ছিলেন উদ্ধত, ঈর্ষাপরায়ণ, চক্রান্তকারী।
তার উক্তি, “তুমি কম সাপিনী নও।” (আমিনা বেগমকে এ কথা বলেন)
মিরজাফর
প্রকৃত নাম মির জাফর আলি খান।
তিনি ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি।
পারস্য থেকে হিন্দুস্থান এসেছিলেন।
একদিনের জন্য হলেও মসনদে বসার স্বপ্ন দেখেছেন।
তিনি ছিলেন বিশ্বাসঘাতক।
মিরন
মিরজাফরের ছেলে।
তার আদেশে সিরাজউদ্দৌলা এবং তার ভাই মির্জা মাহদিকে হত্যা করা হয়।
রায়দুর্লভ
বিহারের ডেপুটি গভর্নর জানকীরামের ছেলে রায়দুর্লভ।
তিনি ছিলেন উড়িষ্যার পেশকার। পরে দেওয়ানিপ্রাপ্ত হন।
সিরাজের সাথে বিরোধ হওয়ায় তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়নি।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মিরন তাকে মৃত্যুদÐ দেয়।
রাজবল্লভ
রাজা রাজবল্লভ সিরাজবিরোধী চক্রান্তের অন্যতম একজন।
ঢাকা বিক্রমপুরের লোক রাজবল্লভ ঢাকায় জাহাজি ফৌজ বিভাগের কেরানি ও পরে গভর্নরের পেশকার ছিলেন।
ঘসেটি বেগমের স্বামী নওয়াজিশ মোহাম্মদ যখন ঢাকার গভর্নর তখন রাজবল্লভ রাজা উপাধি পান।
হোসেন কুলি খাঁর মৃত্যুর পর তিনি ঢাকার দেওয়ান হন এবং ঢাকার শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
জগৎশেঠ
নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম বিশ্বাসঘাতক।
জগৎশেঠ “মহতারচাঁদের” একটি উপাধি।
১৭৪৪ সালে মহতারচাঁদ উপাধি পান ‘জগৎশেঠ’।
তিনি ছিলেন মানিকচাঁদের ভ্রাতুপুত্র।
উমিচাঁদ
এই নাটকের উমিচাঁদ একটি দ্বৈত আচরণকারী খল চরিত্র। নিজেকে খাদেম বলে পরিচয় দেন।
জন্মগতভাবে ছিলেন লাহোরের অধিবাসী শিখ সম্প্রদায়ের লোক।
তিনি নবাবের কথা ইংরেজদের কাছে বলতেন আর ইংরেজদের কথা বলতেন নবাবের কাছে।
রায়দুর্লভ তাকে বলেছেন, ‘জাহেল মূর্খ’ ড্রেক বলেছেন, ‘এ যুগের বিশ্বাসঘাতক’ মিরজাফর বলেছেন, ‘কালকেউটে’।
মোহাম্মদী বেগ
নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারী।
দশ হাজার টাকার লোভে মিরনের প্ররোচনায় সে নবাবকে খুন করে।
নবাব তার কাছে ২ রাকাত নামায পড়ার সময় চাইলেন কিন্তু সে নবাবকে লাঠির আঘাতে ফেলে দিয়ে ছুরির আঘাতে হত্যা করল।
নবাবের পিতা তাকে নিজ সন্তানের মতো লালন করেন, নবাবের মাতা হৈচৈ করে তার শাদি দেন।
রাইসুল জুহালা
দেশপ্রেমিক গুপ্তচর।
রাজারাম সিংহের ছোটো ভাই নারায়ণ সিংহ।
ক্লাইভের নির্দেশে গুলিবিদ্ধ হন।
কৌতুক ও দেশপ্রেমিক চরিত্র।
ক্লাইভ
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভারতবর্ষে আসেন।
নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের একজন।
মিরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বাসালেও প্রকৃত শাসনকর্তা ছিলেন তিনি।
১৭৭৪ সালে আত্মহত্যা করে মারা যান।
ওয়াটস
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাশিমবাজার কুঠি পরিচালক।
তিনি ছিলেন নবাবের দরবারের ইংরেজ প্রতিনিধি।
পলাশীর যুদ্ধের পর কোম্পানি তাকে বরখাস্ত করে।
হলওয়েল
উপাধি সার্জন।
প্রকৃত নাম জন জেফানিয়া
কোম্পানির ঘুসখোর ডাক্তার হলওয়েল।
নবাবের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী।
উক্তি
“একটু নুন জোগাড় হলেই কাঁচা খাব বলে মুলোটা হাতে নিয়ে ঘুরছিলাম।”
লুৎফুন্নেসা
নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী। তাদের বিবাহ হয়—১৭৪৬ সালে।
মির্জা হরিচ খানের কন্যা।
মিরন তাকে বিয়ে করতে চাইলে, জবাবে তিনি বলেন, “আমি চিরকাল হাতির পিঠে চড়ে বেরিয়েছি, সেই আমি কী করে এক গাধার পিঠে চড়ে বেড়াব।”
সিরাজকে বন্দি করে আনা হয় মুর্শিদাবাদে, আর লুৎফুন্নেসাকে আনা হয় ঢাকায়।
২৩ শে জুন স্বামীর সাথে অজানায় বের হয়ে ছিলেন।
মোহনলাল
নবাবের বিশ্বস্ত ও অন্যতম একজন সেনাপতি।
শওকত জঙ্গের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সিরাজ তাকে দেওয়ানখানার পেশকার বানিয়েছিল।
উক্তি “আমার শেষ যুদ্ধ পলাশীতেই”।
কর্নেল ক্লাইভের আদেশে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মির মর্দান
কৌশলী যোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক সেনাপতি।
নবাবের সর্বাধিক বিশ্বাসী ব্যক্তি ছিলেন।
শ্রেষ্ঠ বাঙালি সৈনিক।
উক্তি:
“ইংরেজদের ঘায়েল করতে মোহনলাল, সাঁফ্রে আর আমার বাহিনীই যথেষ্ট।”
“আমাদের প্রাণ থাকতে নবাবের কোনো ক্ষতি হবে না।”
৫। পলাশীর প্রান্তরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
ড্রেক
ইংরেজ গভর্নর।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে আক্রমণরোধের প্রধান ছিলেন।
ক্লেটন: ক্যাপ্টেন।
প্রথম সংলাপ প্রদানকারী।
প্রাণপণে যুদ্ধ করো সাহসী সৈনিক। যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মুত্যুবরণ, এই আমাদের প্রতিজ্ঞা।
যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা?
