বাংলার প্রাচীন জনপদ: পরিচয় ও সভ্যতার বৈশিষ্ট্য
বাংলার ইতিহাস বহুপ্রাচীন। আজকের বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও পশ্চিম বাংলার সুবিস্তৃত অঞ্চল হাজার হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতার উর্বর কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে। নদী, জলাভূমি, পাহাড় ও সমতলের অসাধারণ ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বাংলাকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষের বসতির জন্য উপযোগী করে তোলে। বাংলা শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসেই নয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় গতিশীলতার ক্ষেত্রেও বিশেষ শক্তি অর্জন করেছিল। বাংলার প্রাচীন জনপদ বলতে সাধারণত মौर্য যুগ থেকে পাল যুগ—অর্থাৎ আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতক পর্যন্ত গড়ে ওঠা প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে বোঝানো হয়।
বাংলার প্রাচীন জনপদের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য নাম—পুন্ড্র, গৌড়, বারেন্দ্র, সমতট, হরিকেল, বঙ্গ, বর্গ, তাম্রলিপ্ত, বিক্রমপুর, কামরূপ, কামতা প্রভৃতি অঞ্চল। এসব জনপদ শুধু রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ছিল না; তারা ধর্ম, শিল্পকলার বিকাশ, নগর সভ্যতার অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও স্বীকৃত।
বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর পরিচয়
১. পুন্ড্র (Pundra বা Pundravardhana)
পুন্ড্র বাংলা ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন জনপদ। আজকের বগুড়া, রাজশাহী, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পুন্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পুন্ড্রের রাজধানী ছিল পুন্ড্রবর্ধন (বর্তমান মহাস্থানগড়)। মহাস্থানগড়ের প্রত্ন-উৎখননে পাওয়া প্রাচীন নগর প্রাচীর, মুদ্রা, মৃৎপাত্র, লিপি ও বিভিন্ন সামগ্রী বাংলার অন্যতম প্রাচীন নগর-সভ্যতার প্রমাণ বহন করে।
এখানে পাওয়া মহাস্থান প্রাক-গুপ্ত লিপি থেকে জানা যায়, পুন্ড্রের প্রশাসন সুসংগঠিত ছিল এবং কৃষিকাজ, লবণ উৎপাদন ও নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যের প্রসার ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
২. গৌড় (Gauda)
গৌড় ছিল বাংলার রাজনৈতিক শক্তির প্রধান কেন্দ্র। আজকের রাজশাহী, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, এবং আংশিকভাবে পদ্মার দক্ষিণের অঞ্চলগুলো গৌড় জনপদ গঠন করেছিল। গৌড় নগরী মধ্যযুগেও রাজধানী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। পাল রাজা ধর্মপাল তাঁর রাজধানী প্রাচীন গৌড়-এ স্থাপন করেছিলেন।
গৌড় ছিল বৌদ্ধধর্ম, ব্রাহ্মণ্যবাদ ও পরবর্তীকালে ইসলামি সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। সুলতানি আমলে গৌড় নগরী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
৩. বরেন্দ্রভূমি (Barendrabhumi)
আজকের রাজশাহী, নওগাঁ ও দিনাজপুর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বারেন্দ্র। বারেন্দ্রভূমি তার উর্বর মাটি, উন্নত সেচব্যবস্থা এবং কৃষি-অর্থনীতির জন্য খ্যাত ছিল। পালদের শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল এই বারেন্দ্র অঞ্চল। এখানে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে বজ্রযান ও সহজিয়ান মতবাদের বিকাশ ঘটে।
৪. সমতট (Samataṭa)
সমতট জনপদ ছিল প্রাচীন দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার অঞ্চল—বর্তমান কুমিল্লা, নোয়াখালি, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রভৃতি এলাকা। সমতট ছিল গুপ্ত ও পাল আমলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি ছিল সমুদ্রবাণিজ্যের কেন্দ্র; এখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নৌবাণিজ্য হতো। সমতটের রূপকথা, লোকধর্ম ও শিল্পকলায় বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
৫. হরিকেল (Harikela)
হরিকেল বর্তমান চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী এবং ত্রিপুরার কিছু অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল। এখানে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে পাওয়া হরিকেলার রৌপ্যমুদ্রা প্রমাণ করে যে অঞ্চলটি ছিল স্বাধীন বা আধা-স্বাধীন রাজ্য। এটি বাণিজ্যিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল এবং সমুদ্রপথে আরব, চীন, মালয়েশিয়া ও জাভার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।
৬. বঙ্গ (Banga)
বঙ্গ জনপদ ছিল আজকের ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা অঞ্চল। “বঙ্গ” শব্দ থেকেই পরবর্তীকালে “বাংলা” বা “বাংলাদেশ” নামের উৎপত্তি। বঙ্গ জনপদ ছিল নদীনির্ভর কৃষিকেন্দ্রিক অর্থনীতির প্রতীক। এখানকার মানুষ ছিল নৌযাত্রায় দক্ষ, এবং তারা মৎস্য, লবণ, ভাত, নারকেল ও বস্ত্র উৎপাদনে সমৃদ্ধ ছিল।
৭. তাম্রলিপ্ত (Tamralipta)
তাম্রলিপ্ত ছিল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের মোহনার নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। এই অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে রোম, গ্রিস, মিশর, শ্রীলঙ্কা, বালি, জাভা, সুমাত্রা, বার্মা প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চলতো। তাম্রলিপ্তকে প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বন্দর হিসেবে ধরা হয়। গ্রিক ভূগোলবিদ টলেমি তাম্রলিপ্তকে বহুবার উল্লেখ করেছেন।
বাংলার প্রাচীন সভ্যতার বৈশিষ্ট্য
১. নদীনির্ভর জীবন ও নগরায়ন
বাংলার প্রাচীন সভ্যতার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি ছিল নদী—গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া, মেঘনা, পদ্মা প্রভৃতি নদী মানুষকে এনে দিয়েছিল উর্বরতা, পানি, যাতায়াত, মৎস্যসম্পদ ও বাণিজ্যের সুযোগ।
নদীভিত্তিক এই সভ্যতার কারণে—
- কৃষি উৎপাদন বেড়েছে
- নৌবাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছে
- নগর কেন্দ্র গড়ে উঠেছে (যেমন মহাস্থানগড়, ময়নামতি, বিক্রমপুর)
২. কৃষি ও খাদ্যাভ্যাস
বাংলার মানুষ প্রধানত ধান, তিল, আখ, নারকেল, বাজরা, গম, ডাল চাষ করত। পান-সুপারি, কদবেল, কলা ও আম ছিল স্থানীয় ফল। মাছ ছিল প্রধান খাদ্য। ধান উৎপাদনের জন্য উন্নত সেচব্যবস্থা এবং খাল-নালা খননের প্রমাণ প্রত্ন-তথ্যে পাওয়া যায়।
৩. শিল্পকলা ও কারুশিল্প
বাংলার প্রাচীন জনপদ ছিল—
- মৃৎশিল্প (Burnished Grey Ware, Black and Red Ware সরঞ্জাম)
- ধান ভাজা, ধাতুশিল্প, লৌহ-অস্ত্র, পিতল ও কাঁসার পাত্র
- বস্ত্রশিল্প (মসলিনের প্রাচীন রূপ)
- বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য রত্ন-অলংকার উৎপাদন
পুন্ড্র, বঙ্গ ও তাম্রলিপ্তে বস্ত্রশিল্প ছিল অতিশয় উন্নত; এ অঞ্চলের সূক্ষ্ম বস্ত্র সিল্ক রোডের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি হতো।
৪. ধর্মীয় বৈচিত্র্য
বাংলার প্রাচীন জনপদে ধর্মীয় বহুত্ব ছিল লক্ষণীয়—
- ব্রাহ্মণ্যধর্ম
- বৌদ্ধধর্ম (বিশেষত পাল আমলে)
- জৈন ধর্ম
- লোকধর্ম ও animism
সমতট ও হরিকেলে তন্ত্রবাদের বিকাশ ঘটে। পাল যুগে বিকশিত মহাবিহারগুলো (নালন্দা, সোমপুর, বিক্রমশীলা) ছিল আন্তর্জাতিক শিক্ষেন্দ্র।
৫. লিপি, ভাষা ও সাহিত্য
প্রাচীন বাংলার লিপি ছিল প্রধানত—
- ব্রাহ্মী
- খরোষ্ঠী
- পরবর্তীতে গৌড়ীয় বাংলা লিপির আদিরূপ
‘বঙ্গ’, ‘পুন্ড্র’, ‘সমতট’ ইত্যাদি শব্দ বহু প্রাচীন লিপিকর ও ভ্রমণকারীর লেখায় পাওয়া যায়। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও ‘পুন্ড্র’ ও ‘তাম্রলিপ্ত’ উল্লেখ আছে।
৬. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
বাংলার জনপদগুলো ভারত মহাসাগরীয় মেরিটাইম ট্রেড নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। তাম্রলিপ্ত, হরিকেল ও সমতট থেকে রপ্তানি হতো—
- তুলা ও বস্ত্র
- মসলা
- হাতির দাঁত
- সুগন্ধি
- স্বর্ণ ও রৌপ্য
- চাল, নারকেল
- নৌ-নির্মাণ সামগ্রী
গ্রিক, রোমান, আরব, চীনা নাবিকেরা বাংলাকে ‘সোনার দেশ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বাংলার প্রাচীন সভ্যতার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিস্তার
৭. রাজনৈতিক কাঠামো
বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো কখনো স্বাধীন রাজ্য, কখনো বৃহত্তর সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাকাঠামো:
- মৌর্য সাম্রাজ্য: বাংলা ছিল তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ; করতোয়া উপত্যকা ছিল সামরিক ঘাঁটি।
- গুপ্ত সাম্রাজ্য: সমতট ও পুন্ড্র গুপ্তদের শাসনে সমৃদ্ধ ছিল।
- পাল রাজবংশ: বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার বৃহৎ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত; বৌদ্ধধর্মের সর্বোচ্চ ফুলেফেঁপে ওঠার যুগ।
- সেন রাজবংশ: হিন্দু ব্রাহ্মণ্যধর্ম পুনরুজ্জীবন ঘটায় এবং বিক্রমপুর ছিল তাদের রাজধানী।
৮. সামাজিক কাঠামো
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- কৃষক, মৎস্যজীবী, কারিগর, লৌহশিল্পী, বয়নশিল্পী ছিল মূল জনগোষ্ঠী।
- নারী-পুরুষ উভয়েই কৃষিকাজ, বস্ত্রশিল্প ও বাজার-বাণিজ্যে যুক্ত ছিল।
- পরিবার ছিল যৌথ-পরিবারভিত্তিক।
- ব্রাহ্মণ্য, বৌদ্ধ, লোকবিশ্বাস— এসব একসঙ্গে সহাবস্থান করেছিল।
- বাঙালির গোড়ার বৈশিষ্ট্য— সহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক বহুত্ব—এই যুগেই গড়ে ওঠে।
৯. শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা
পাল যুগে বাংলার শিক্ষা বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠে।
- সোমপুর মহাবিহার (নওগাঁ) – UNESCO Heritage Site
- বিক্রমশীলা মহাবিহার
- নালন্দা মহাবিহার
এখানে দর্শন, গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভাষা, রাজনীতি, ভাস্কর্য, স্থাপত্য— নানা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো। তিব্বত, চীন, জাভা, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা থেকে শিক্ষার্থী আসত।
১০. সামরিক ব্যবস্থা
বাংলার জনপদগুলো নদীঘেরা বলে সেনাবাহিনীর প্রধান শক্তি ছিল—
- নৌবাহিনী
- ধনুক-অস্ত্র
- ঘোড়া, হাতি
- টাওয়ার নির্মাণ ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা
পাল ও সেন রাজারা বিশেষভাবে নৌবাহিনীর ওপর জোর দেন, যা বাংলাকে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষায় শক্তিশালী করে তোলে।
১১. শিল্প-স্থাপত্য
বাংলার প্রাচীন স্থাপত্য তিনভাবে দেখা যায়—
- মন্দির স্থাপত্য (তাড়ার মন্দির, দেবপালের মন্দির)
- বৌদ্ধ বিহার স্থাপত্য (সোমপুর মহাবিহার)
- রাজপ্রাসাদ ও নগর রচনা (মহাস্থানগড়, বিক্রমপুর)
মাটির ইট, পোড়া মাটি, বেলেপাথর ও শিলামিশ্রণে নির্মিত এসব স্থাপত্য বাংলার মৌলিক রুচি ও প্রকৃতি-সম্মত প্রযুক্তির পরিচয় দেয়।
১২. বাংলা নামের উৎপত্তি
“বঙ্গ” শব্দ থেকেই ‘বাংলা’ নামের উদ্ভব। গ্রিক ভ্রমণকারী মেগাস্থেনিজ তাঁর গ্রন্থে ‘গাঙ্গারিদাই’ নামে যে জাতিগোষ্ঠীর কথা বলেন, তাদেরও বঙ্গীয় বলে ধরা হয়। ‘বঙ্গ’, ‘বাঙ্গালা’, ‘বঙ্গাল’ শব্দগুলোর বিবর্তনের মধ্য দিয়েই বর্তমান “বাংলা” নাম প্রতিষ্ঠা পায়।
১৩. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
বাংলার প্রাচীন জনপদ ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অভিন্ন কেন্দ্র। চীনা ভ্রমণকারী হিউয়েন সাং, ফা-হিয়ান, আরব ভ্রমণকারী ইবনে খলদুন, আল-বিরুনি প্রমুখ বাংলা সম্পর্কে লিখে গেছেন।
- তাঁরা বাংলার সমৃদ্ধ বস্ত্রশিল্প, ধান উৎপাদন, নদীপরিবহন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কথা বলেন।
- আরব ব্যবসায়ীরা বাংলার লবণ, চিনি, চাল ও বস্ত্র নিয়ে পশ্চিমে রপ্তানি করত।
১৪. অর্থনীতি
বাংলার অর্থনীতি মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো ছিল—
- কৃষি
- নৌবাণিজ্য
- বস্ত্রশিল্প
ধনুক ও ধাতু, হাতির দাঁত, পশমজাত দ্রব্য, রেশম ও তুলা ছিল প্রধান রপ্তানি সামগ্রী।
১৫. প্রাচীন বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা
মানুষ ছিল পরিশ্রমী, প্রকৃতি-নির্ভর, নদী-সংলগ্ন।
- ঘরবাড়ি তৈরি হতো বাঁশ, খড়, কাদা দিয়ে।
- উৎসব, গান, নাচ, পালাগান, নৌকা-বাইচ ছিল সামাজিক আনন্দের মাধ্যম।
- নারী-পুরুষের পোশাকে তুলা ও রেশমজাত বস্ত্র ব্যবহার প্রচলিত ছিল।
বাংলার প্রাচীন জনপদের ইতিহাস শুধু রাজশাসনের ধারাবিবরণ নয়—এ ইতিহাস একটি নদীনির্ভর, কৃষিভিত্তিক, বহুসংস্কৃতির, বাণিজ্যিক ও মানবিক সভ্যতার কাহিনি। পুন্ড্রের মাটির মৃৎপাত্র, গৌড়ের নগরসভ্যতা, সমতটের সমুদ্রবাণিজ্য, হরিকেলের স্বর্ণমুদ্রা, তাম্রলিপ্তের বন্দর—এসব মিলে গড়ে উঠেছিল এক সমৃদ্ধ ও গতিশীল বাংলা।
বাংলার প্রাচীন সভ্যতা তার সহিষ্ণুতা, বৈচিত্র্য, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার বৈশিষ্ট্য দিয়ে বিশ্বে অনন্য অবস্থান দখল করে আছে। হাজার বছরের সেই ঐতিহ্যই আজকের বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সমাজ ও জাতিসত্তার ভিত্তি।
