১. এমদাদ:
এমদাদ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। শুরুতে সে কলেজে শিক্ষার্থী এবং আধুনিক, দ্বিধাহীন, বুদ্ধিজীবী চরিত্রের অধিকারী। সে ধর্ম, খোদা বা রসূলের প্রতি কখনো বিশ্বাসী নয়। তার জীবনযাপন বিলাসী, স্বাধীনচেতা, এবং ধর্মীয় বিধি-নিষেধের প্রতি উদাসীন।
কিন্তু খেলাফৎ আন্দোলন ও সুফী পীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মোরাকেবা অভিজ্ঞতার পর তার জীবন ধারার পরিবর্তন ঘটে। এমদাদ নিজেকে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত করার চেষ্টা শুরু করে। নামাজ, তস্বিহ এবং রুহানী সাধনার প্রতি তার উৎসাহ বেড়ে যায়। তবে গল্পে তার চরিত্রের দ্বন্দ্বও ফুটে ওঠে—সে চায় আধ্যাত্মিক উন্নতি, কিন্তু তার নফসানিয়াত ও দুনিয়াবাদী স্বভাব মাঝে মাঝে তাকে বাধাগ্রস্ত করে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
- স্বাধীনচেতা ও দ্বন্দ্বময়
- বিলাসী ও শিক্ষিত
- আধ্যাত্মিক জাগরণ ও রুহানী সাধনায় মনোযোগী
- নফসানিয়াত ও দুনিয়াবাদী চেতনার সঙ্গে দ্বন্দ্ব
২. সুফী/পীর সাহেব:
সুফী বা পীর সাহেব আধ্যাত্মিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং রুহানী শক্তিতে প্রখর। তিনি শুধুমাত্র একটি শিক্ষকের মতো নয়, বরং মুরিদদের রুহানী পথপ্রদর্শক। তিনি মোরাকেবা, তাওয়াজ্জোহ এবং মুরিদগণকে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য নির্দেশনা দেন। তার চরিত্রে আধ্যাত্মিক সততা, দয়া, এবং কৌশলী প্রজ্ঞা লক্ষ্য করা যায়।
গল্পে পীর সাহেবের চরিত্র এমদাদের পরিবর্তনের জন্য কCatalyst হিসেবে কাজ করে। তিনি এমদাদকে তার নফসানিয়াত থেকে মুক্তি দিয়ে, রুহানী উন্নতির পথে পরিচালিত করেন। পীর সাহেবের উপস্থিতি এবং নির্দেশনা গল্পের আধ্যাত্মিক মাত্রা ও গভীরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
- আধ্যাত্মিক ও রুহানী পথপ্রদর্শক
- ধৈর্যশীল ও প্রজ্ঞাবান
- মুরিদদের শিক্ষাদান ও রুহানী উন্নতির জন্য নির্দেশিকা প্রদান
- রুহানী ক্ষমতা ও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধ
