⭐ হাবিবুর রহমান মিলন : জীবন ও কর্ম
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে অন্যতম প্রভাবশালী ও সম্মানিত নাম হাবিবুর রহমান মিলন। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংবাদপত্র জগতের ভরসাযোগ্য কণ্ঠ, শক্তিশালী কলম এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতীক ছিলেন।
🌿 শৈশব ও জন্ম
- জন্ম: ২৩ জানুয়ারি ১৯৩৯
- জন্মস্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাংলাদেশ
শৈশব থেকেই বই, সংবাদপত্র ও লেখালেখির প্রতি তার ঝোঁক ছিল প্রবল। পরবর্তীকালে এই আগ্রহই তাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
🎓 শিক্ষাজীবন
তার শিক্ষাজীবন ছিল নিয়মতান্ত্রিক এবং সাহিত্য–সংস্কৃতি গুরুত্ব পাওয়া পরিবেশে লালিত। শিক্ষার আলো তাকে যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করে, যা পরবর্তীতে তার লেখার ভাষায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
✍️ কর্মজীবন
🔹 সাংবাদিকতার শুরু
- ১৯৬৩ সালে তিনি দৈনিক সংবাদ-এ যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
🔹 ইত্তেফাক–এ যোগদান
এক দুর্ঘটনায় তার বড় ভাই আহমেদুর রহমান (দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক) মৃত্যুবরণ করলে তিনি তার পদে যোগ দেন।
ইত্তেফাকে থেকেই তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এক উজ্জ্বল নাম হয়ে ওঠেন।
🔹 ছদ্মনাম
- ভিমরুল ছদ্মনামে তার লেখা ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও সামাজিক বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ।
- সন্ধানী ছদ্মনামে তার জনপ্রিয় কলাম ছিল ‘ঘরে-বাইরে’—যা বহু পাঠকের প্রিয় হয়ে ওঠে।
🔹 পদ ও দায়িত্ব
- বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (PIB)-এর চেয়ারম্যান
- দৈনিক ইত্তেফাক-এর উপদেষ্টা সম্পাদক
- জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রবীণ সদস্য
🏅 পুরস্কার ও সম্মাননা
তার অবদান স্বীকৃত হয়েছে দেশ-বিদেশের নানা সম্মাননায়—
- একুশে পদক (২০১২)
- জাতির জনক পুরস্কার
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী পুরস্কার
- বিএফইউজে পুরস্কার
- ব্যারিস্টার এ রসুল স্বর্ণপদক
এই পুরস্কারগুলো তার সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল অঙ্গীকার, সততা ও নির্ভীকতার প্রমাণ বহন করে।
🏡 ব্যক্তিগত জীবন
তার পরিবারে ছিল—
- এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে
পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি ছিলেন একজন স্নেহশীল পিতা, দায়িত্বশীল সামাজিক মানুষ এবং বিশিষ্ট পেশাজীবী।
🕯️ মৃত্যু
১৩ জুন ২০১৫, রাত ৩টায়
ল্যাবএইড হাসপাতাল, ঢাকা
মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৮ বছর।
সাংবাদিক সমাজ তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয় এবং বাংলাদেশ এক নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিককে হারায়।
⭐ সংক্ষেপে মূল্যায়ন
হাবিবুর রহমান মিলন ছিলেন—
- নির্ভীক সাংবাদিক
- যুক্তিনিষ্ঠ লেখক
- মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ধারক
- বাংলাদেশি সংবাদ জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
