সমুদ্রের জল লবণাক্ত কেন?

সমুদ্রের জল লবণাক্ত কেন?

পৃথিবীর পৃষ্ঠের ৭১% জলের মধ্যে সমুদ্রের জল সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত। এই জলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর লবণাক্ততা। একটি গ্লাস সমুদ্রের জলে সাধারণত ৩.৫% লবণ থাকে। অর্থাৎ ১০০ লিটার সমুদ্রের জলে প্রায় ৩.৫ কিলোগ্রাম লবণ। প্রশ্ন হলো—সমুদ্রের জল লবণাক্ত কেন?


১. লবণের উৎস

সমুদ্রের লবণের প্রধান উৎস হলো নদী ও খনিজ পদার্থ। নদী পাহাড়, শিলার ওপর বয়ে গিয়ে বিভিন্ন লবণীয় খনিজ দ্রবীভূত করে নিয়ে আসে। যেমন—সোডিয়াম, ক্লোরাইড, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম
এগুলো সমুদ্রের জলে মিশে লবণাক্ততা সৃষ্টি করে। এছাড়া আগ্নেয়গিরি ও ভলকানো থেকে নির্গত গ্যাস ও ধূলিকণা সমুদ্রের লবণায়ন বাড়ায়।


২. বাষ্পায়নের প্রভাব

সূর্যের তাপ সমুদ্রের জলকে বাষ্পে রূপান্তরিত করে। কিন্তু বাষ্পে শুধু শুধু জল যায়, লবণ থাকে সমুদ্রে। এই ক্রমে সময়ের সাথে সমুদ্রের লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। গরম ও শুকনো অঞ্চলে বাষ্পায়নের হার বেশি, তাই সেখানে লবণাক্ততা তুলনামূলক বেশি হয়।


৩. জলের প্রবাহ ও লবণায়ন

  • নদীর প্রবাহ ও সমুদ্রের ঢেউ সমন্বয় করে লবণ ছড়িয়ে দেয়।
  • স্থলভাগের কাছে লবণ কিছুটা কম, কারণ নদী নতুন জল সরবরাহ করে।
  • গভীর সমুদ্রে লবণায়ন বেশি, কারণ বাষ্পায়ন ও জলচক্রের প্রভাব কম থাকে।

৪. ভূ-রাসায়নিক প্রক্রিয়া

সমুদ্রের তলে শিলা ও চুনাপাথর থেকে খনিজ দ্রবীভূত হয়। লবণের সাথে অন্যান্য খনিজ যেমন সালফেট, কার্বনেট যুক্ত হয়।
এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে সমুদ্রের লবণাক্ততা ধরে রাখে ও সময়ে সময়ে পরিবর্তিত করে।


৫. সমুদ্রের লবণাক্ততার গুরুত্ব

  • জীববৈচিত্র্য: লবণাক্ত জল বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবকে বাসস্থান দেয়।
  • জলচাপ ও ঘনত্ব: লবণ সমুদ্রের ঘনত্ব বাড়ায়, যা সমুদ্রপ্রবাহকে প্রভাবিত করে।
  • জলচক্র: বাষ্পায়নের মাধ্যমে মিঠা জল তৈরি হয়, যা পৃথিবীর বৃষ্টি এবং জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে।

মুদ্রের জল লবণাক্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো—নদী থেকে আসা লবণ, আগ্নেয়গিরি এবং ভূ-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, সাথে বাষ্পায়নের প্রভাব। লবণ শুধু স্বাদ দেয় না, বরং সমুদ্রের পরিবেশ, প্রাণীর বাসস্থান ও জলচক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমুদ্রের লবণাক্ততা আমাদের পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *