গল্প
একবার এক শান্ত ও সবুজ জঙ্গলে এক চতুর শিয়াল থাকত। শিয়ালটি ছিলেন খুবই চালাক, সবসময় নিজের বুদ্ধি দিয়ে অন্য প্রাণীদের ছলনা করত। জঙ্গলের এক প্রান্তে বড়ো, শক্তিশালী একটি ভালুকও বাস করত। ভালুকটি দেখতে ভয়ঙ্কর হলেও স্বভাবগতভাবে শান্ত ও ধীর ছিল।
একদিন শিয়ালটি ভেবল, “ভালুকটিকে ভয় দেখিয়ে আমি তার খাদ্য চুরি করতে পারি।” তাই সে ভালুকের কাছে গিয়ে ভদ্রভাবে বলল, “হে প্রিয় বন্ধু, তুমি কি জানো, আজ জঙ্গলে এক বিরাট বিপদ এসেছে? সবাই খুব ভয় পাচ্ছে। তুমি কি আমার সাথে আছ?”
ভালুকটি নির্ভয়ে উত্তর দিল, “আমি ভয় পাই না। তবে তুমি যা বলছো, তা সত্য কি না তা দেখা দরকার।”
শিয়ালটি আরও চালাকি দেখাতে লাগল। সে বলল, “ভালুক ভাই, তোমার শক্তি দিয়ে আমরা সবাইকে রক্ষা করতে পারি। কিন্তু আমাকে তোমার খাদ্যের কিছু ভাগ দিতে হবে। অন্যথায় বিপদ থেকে বাঁচা কঠিন হবে।”
ভালুকটি শান্তভাবে বলল, “যদি সত্যিই এমন বিপদ আসে, তাহলে আমি নিজে তা মোকাবিলা করব। তবে আমি অন্যের খাওয়া নেব না।”
শিয়ালটি চতুরভাবে বলল, “না, তুমি যদি কিছু না দাও, তবে আমাদের দুজনেই বিপদে পড়ব।”
ভালুকের নৈতিকতা ও সততার কারণে শিয়াল তার ছলনায় সফল হতে পারল না। অবশেষে শিয়াল বুঝল, ধোঁকাবাজি সবসময় ফল দেয় না। সে প্রাকৃতিক বুদ্ধি ও চতুরতা ব্যবহার করলেও সততা ও নৈতিকতা সবচেয়ে শক্তিশালী।
পরবর্তী দিন শিয়াল বুঝল, ভালুকের মতো শক্তিশালী প্রাণীর সঙ্গে প্রতারণা কাজ করে না। সে নিজের চালাকি সীমিত করল এবং অন্যের ক্ষতি না করার শপথ নিল।
এই গল্প থেকে শিক্ষা হলো, বুদ্ধি থাকলেই সবসময় লাভ হয় না; সততা, নৈতিকতা ও ধৈর্য সর্বোচ্চ।
নীতিঃ চতুরতা ও বুদ্ধি ভালো, তবে সততা ও নৈতিকতা সর্বদা বিজয়ী।
শেষে লিখুন:
মুনশির কণ্ঠে শুনতে বা ভিডিয়োটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।
