শহীদ হাদিস পার্ক, খুলনা


🏞️ শহীদ হাদিস পার্ক — ভ্রমণ প্রতিবেদন

✍️ ভূমিকা

শহীদ হাদিস পার্ক খুলনা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যান। এটি খুলনা অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো পার্কগুলোর একটি, যার ইতিহাস শুরু হয় ১৮৮৪ সালে “খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক” নামে। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ হাদিসুর রহমান বাবুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পার্কটির নামকরণ করা হয় “শহীদ হাদিস পার্ক”। এটি খুলনার মানুষের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের এক অনন্য কেন্দ্রস্থল।


📍 কোথায়

শহীদ হাদিস পার্ক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা জেলা শহরের কেন্দ্রস্থলে, পি. সি. রায় রোডে, বাংলাদেশ ব্যাংক (খুলনা শাখা)-এর পাশে অবস্থিত। এটি খুলনা রেলস্টেশন থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এবং নিউ মার্কেট থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে।


🎯 কেন যাবেন

  • খুলনা শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থানটি ঘুরে দেখার সুযোগ।
  • ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে নির্মিত শহীদ মিনার পরিদর্শন।
  • পার্কের সবুজ পরিবেশে সময় কাটানো ও বিশ্রাম নেওয়া।
  • স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ।

🕓 কখন যাবেন

সারা বছরই পার্ক খোলা থাকে। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়টি ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। সকাল বা বিকেলের দিকে গেলে পার্কের পরিবেশ সবচেয়ে মনোরম থাকে।


🗺️ কীভাবে যাবেন / রুট (Step by Step)

  1. ঢাকা থেকে খুলনা:
    • বাসে: গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে হানিফ, শ্যামলী, গ্রীনলাইন, সোহাগ, সুন্দরবন ইত্যাদি বাসে খুলনা পর্যন্ত (সময় লাগে প্রায় ৬–৮ ঘণ্টা)।
    • ট্রেনে: কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে খুলনা গামী চিত্রা, সুন্দরবন বা রূপসা এক্সপ্রেসে চড়তে পারেন।
  2. খুলনা শহরের ভেতর:
    • রেলস্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশা/ইজি বাইকে ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে শহীদ হাদিস পার্কে পৌঁছানো যায়।

🏛️ কী দেখবেন

  • শহীদ মিনার (ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে নির্মিত)
  • শহীদ শেখ হাদিসুর রহমান বাবুর স্মৃতিফলক
  • পার্কের সবুজ গাছপালা, হাঁটার পথ ও বিশ্রামস্থল
  • স্থানীয়দের মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ

💰 খরচ (আনুমানিক)

বিষয়খরচ (টাকা)
ঢাকা–খুলনা বাসভাড়া (একপথ)৬০০–১০০০
খুলনা শহরের রিকশা ভাড়া২০–৫০
পার্কে প্রবেশমূল্যসাধারণত বিনামূল্যে
খাবার ও অন্যান্য৩০০–৫০০
মোট আনুমানিক খরচ (একদিনের ভ্রমণ)১০০০–১৫০০ টাকা

🚗 পরিবহন

  • দূরপাল্লা: বাস, ট্রেন বা ব্যক্তিগত গাড়ি।
  • শহরের ভেতর: রিকশা, ইজি বাইক বা টেম্পো সহজলভ্য।

🍽️ খাওয়ার ব্যবস্থা

পার্কের আশেপাশে ছোট ফাস্টফুড ও স্থানীয় খাবারের দোকান রয়েছে।
খুলনা শহরে হোটেল সিটি ইন, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদিতে মানসম্মত খাবার পাওয়া যায়।


☎️ যোগাযোগ

  • খুলনা সিটি করপোরেশন তথ্যকেন্দ্র: খুলনা সদর, ফোন: ০৪১-৭২০০০০
  • বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন: www.parjatan.gov.bd

🏨 আবাসন ব্যবস্থা

খুলনা শহরে ভালো মানের হোটেল রয়েছে:

  • হোটেল সিটি ইন
  • হোটেল রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল
  • হোটেল সোনারগাঁও
  • হোটেল হিলটন খুলনা
    ভাড়া প্রতি রাত ৮০০–২৫০০ টাকার মধ্যে।

🌳 দৃষ্টি আকর্ষণ

  • শহীদ মিনারের এলাকায় শ্রদ্ধা বজায় রাখুন।
  • পার্কের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করুন।
  • অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যানার, পোস্টার বা বর্জ্য ফেলবেন না।

⚠️ সতর্কতা

  • রাতে গভীর পর্যন্ত পার্কে অবস্থান না করাই ভালো।
  • পকেটমার ও ভিড়ের সময় সাবধান থাকুন।
  • বৃষ্টির সময় পার্কের কিছু পথ পিচ্ছিল হতে পারে।

🏞️ আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

  • সুন্দরবন (বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান)
  • খানজাহান আলী সেতু
  • ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট
  • রূপসা নদীর তীর
  • বনবিলাস চিড়িয়াখানা
  • খুলনা শহরের শপিং সেন্টার ও লালন শাহ মাজার (দূরপথে কুষ্টিয়া)।

💡 ভ্রমণ টিপস

  1. সকাল বা বিকেলে ভ্রমণ করুন – সূর্যের আলোয় পার্ক আরও সুন্দর লাগে।
  2. পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন।
  3. স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পার্কের ইতিহাস শুনলে ভ্রমণ আরও অর্থবহ হবে।
  4. আবহাওয়া গরম হলে টুপি ও ছাতা সঙ্গে রাখুন।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *