শহীদ কাদরী : জীবন ও কর্ম

ভূমিকা
শহীদ কাদরী (১৪ আগস্ট ১৯৪২ – ২৮ আগস্ট ২০১৬) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি ও লেখক। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন, আধুনিকতা ও দৈনন্দিন অভিব্যক্তিকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তার কবিতায় দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রকৃতি ও নগর জীবনের অভিব্যক্তি প্রতিফলিত হয়েছে। শহর এবং তার সভ্যতার বিভিন্ন দিককে তিনি কবিতায় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন।
শহীদ কাদরী বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
প্রাথমিক জীবন
শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের কলিকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল কাটে কলিকাতা শহরে। ১৯৫২ সালে দশ বছর বয়সে তিনি পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)-এর ঢাকায় চলে আসেন। পরবর্তী প্রায় তিন দশক তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সাল থেকে বিদেশে প্রবাস জীবন শুরু করেন এবং বার্লিন, লন্ডন, বোস্টন, এবং শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কে বসবাস করেন।
সাহিত্য জীবন
শহীদ কাদরী ১১ বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে ‘পরিক্রমা’ শিরোনামে তার প্রথম কবিতা রচনা করেন যা স্পন্দন কাগজে মহিউদ্দিন আহমদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে তিনি ‘জলকন্যার জন্য’ নামের কবিতা লিখেন। নিয়মিতভাবে কবিতা রচনা ও প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ চারটি এবং কবিতার সংখ্যা মোট ১২৬।
কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার (১৯৬৭)
- তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা (১৯৭৪)
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই (১৯৭৮)
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯)
সংকলন:
- শহীদ কাদরীর কবিতা
- তোমার জন্যে
সাহিত্য বৈশিষ্ট্য
শহীদ কাদরীর কবিতায় নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক অভিব্যক্তি, অনুভূতির গভীরতা ও রূপগত পরিচর্যা সুস্পষ্ট। তার কবিতায় আধুনিকতার সঙ্গে দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্ববোধ এবং প্রকৃতি ও নগর জীবনের সুন্দর সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
মৃত্যু
শহীদ কাদরী ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট নিউইয়র্কের নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
উপসংহার
শহীদ কাদরী আধুনিক বাংলা কবিতার একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিভা। নাগরিক জীবন, আধুনিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে তার কবিতায় অসাধারণভাবে ফুটিয়েছেন। তার রচনাবলী ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে থাকবে।