লোভী বিড়ালের শিক্ষা | বিড়াল ডাক্তার | ঈশপের নীতিকথা | Biral Dakter | Isoper Golpo
গল্প: লোভী বিড়ালের শিক্ষা
এক গ্রামে ছিল এক অত্যন্ত ধূর্ত ও লোভী বিড়াল। গ্রামের সবাই তাকে ডাকত—“বিড়াল ডাক্তার”। কারণ, সে মুখে বলত যে সে অসুস্থ প্রাণীদের চিকিৎসা করে, তাদের সাহায্য করে। কিন্তু সত্য হলো—সে ছিল ভয়ানক লোভী; পশুদের চিকিৎসার কথা বলে কাছে টেনে নিয়ে সুযোগ পেলেই তাদের গিলে ফেলত।
একদিন গ্রামের এক ভেড়া অসুস্থ হলো। সবাই পরামর্শ দিল—“বিড়াল ডাক্তারের কাছে যাও।” ভেড়াটি ভয় পেত, কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বিড়াল ডাক্তারের বাড়ি গেল। দরজায় দাঁড়াতেই বিড়াল ডাক্তার গলা পরিষ্কার করে বলল—
— “আহা! এসো এসো! তোমার চিকিৎসা আমিই করব। আমি তো গ্রামের সবচেয়ে দয়ালু ডাক্তার!”
ভেড়াটি ভীত কণ্ঠে বলল—
— “ডাক্তারবাবু, আমি খুব দুর্বল… একটু দেখে দেবেন?”
বিড়াল ডাক্তার মুচকি হেসে বলল—
— “দেখব তো অবশ্যই! তার আগে দরজাটা বন্ধ করে দিই, ঠান্ডা লাগে কি না!”
ভেড়া বুঝল, কিছু একটা গোলমাল আছে। কিন্তু সে কিছু বলল না, শুধু সতর্ক হলো। বিড়াল ডাক্তার তাকে ভেতরে বসতে বলল, আর নিজে তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে দাঁত কটমট করতে লাগল।
হঠাৎ বিড়াল ডাক্তার বলল—
— “তোমাকে চিকিৎসা করার জন্য আমাকে আগে তোমার শরীরটা একটু ‘পরীক্ষা’ করতে হবে।”
ভেড়া এবার ভয় পেল। বিড়ালের ‘পরীক্ষা’ মানেই তো বিপদ!
তাই সে বুদ্ধি করে বলল—
— “ডাক্তারবাবু, আপনি দয়ালু, তাই একটি কথা বলছি… আমার বন্ধুরা কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে দেখতে আসবে। ওরা খুব শক্তিশালী।”
বিড়াল ডাক্তার থমকে গেল।
তার চোখ বড় হয়ে গেল।
বন্ধুরা আসছে? শক্তিশালী?
সে ভাবল, “যদি সত্যিই বড় কোনো পশু আসে!”
ভয়ে ভয়ে বলল—
— “ওহ! তাহলে তোমার পরীক্ষা পরে করব। তুমি বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম করো!”
ভেড়া বুঝল তার প্রাণ বাঁচল। সে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল।
তার বেরিয়ে যেতেই গ্রামের কয়েকটি কুকুর বিড়াল ডাক্তারের সামনে এসে দাঁড়াল। তারা আগেই তার কুকীর্তির কথা জানত। কুকুরগুলো বলল—
— “তুমি চিকিৎসার নামে পশুদের খাও? আজ থেকে আর কেউ তোমার খপ্পরে পড়বে না। সাবধান!”
বিড়াল ডাক্তার ভয়ে কাঁপতে লাগল। তার মিথ্যে, ধূর্ততা, আর লোভের কারণে সে সেদিন বড় এক শিক্ষা পেল।
এরপর সে আর কাউকে ঠকানোর সাহস দেখায়নি।
নৈতিক শিক্ষা:
লোভ মানুষকে (বা প্রাণীকে) ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।
মিথ্যা ও প্রতারণা কখনো স্থায়ী হয় না—সত্য একদিন প্রকাশ হবেই।
