ভূমিকা
লাবনী পয়েন্ট কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত অংশগুলোর একটি এবং শহরের কেন্দ্রের সবচেয়ে সহজ প্রবেশযোগ্য বিচ। এখানে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সূর্যাস্ত দেখতে, হাঁটাহাঁটি করতে, ছবি তুলতে ও সাগরের ঢেউ উপভোগ করতে আসে। পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে বা একা—সবার জন্যই এটি একটি চমৎকার ভ্রমণস্থান।
কোথায়
লাবনী পয়েন্ট কক্সবাজার শহরের কলাতলী ও বিচ রোড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। শহরের কেন্দ্র থেকে খুব অল্প সময়েই এখানে পৌঁছানো যায়।
কেন যাবেন
- কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে প্রাণবন্ত বিচ।
- সূর্যাস্ত দেখার জন্য জনপ্রিয় স্থান।
- ঝিনুক বাজার, রেস্তোরাঁ ও বাজারসংলগ্ন হওয়ায় সুবিধাজনক।
- সমুদ্রের ঢেউ, হাঁটাহাঁটি, বিশ্রাম ও ফটোসেশনের আদর্শ জায়গা।
কখন যাবেন
নভেম্বর থেকে মার্চ—শীতকাল হলো সেরা সময়। তখন সমুদ্র শান্ত থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম। বর্ষায় ঢেউ বেশি থাকে।
কীভাবে যাবেন / রুট (স্টেপ বাই স্টেপ)
ঢাকা থেকে:
- বিমান: ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে ট্যাক্সি/অটো নিয়ে ১০–১৫ মিনিটে লাবনী পয়েন্ট।
- বাস: ঢাকা থেকে কক্সবাজার (৮–১০ ঘণ্টা), তারপর লোকাল অটো/রিকশা নিয়ে ১০–১৫ মিনিটে লাবনী পয়েন্ট।
শহরের ভিতর:
কক্সবাজার কলাতলী বা বিচ রোড থেকে রিকশা/অটোতে খুব সহজেই লাবনী পয়েন্টে পৌঁছানো যায়। অনেক হোটেল থেকেই হাঁটলেও পৌঁছানো সম্ভব।
কী দেখবেন
- মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত
- সমুদ্রের ঢেউ, লম্বা বালুকাবেলা
- বিচ মার্কেট ও ঝিনুক সামগ্রী
- রাতের বিচ ভিউ
- কাছাকাছি ফটোপয়েন্ট ও পার্কিং এলাকা
খরচ (আনুমানিক)
- ঢাকা–কক্সবাজার বাস ভাড়া: ৬০০–১,২০০ টাকা
- ঢাকা–কক্সবাজার বিমান ভাড়া: ৩,৫০০–১০,০০০ টাকা (সিজনভেদে)
- স্থানীয় রিকশা/অটো: ৫০–৩০০ টাকা
- হোটেল ভাড়া: বাজেট ৬০০–১,২০০ টাকা; মধ্যমান ২,০০০–৬,০০০ টাকা; লাক্সারি বেশি
পরিবহন (স্থানীয়)
রিকশা, অটো, সিএনজি, ট্যাক্সি—সব ধরনের পরিবহন সহজেই পাওয়া যায়। মেরিন ড্রাইভ রোডে যেতে চাইলে গাড়ি বা ট্যুরিস্ট মাইক্রো সুবিধাজনক।
খাওয়ার ব্যবস্থা
লাবনী ও কলাতলী এলাকায় অসংখ্য রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, বারবিকিউ, দই, ফুচকা, নারিকেল পানি—সবই সহজেই পাওয়া যায়।
যোগাযোগ
মোবাইল নেটওয়ার্ক সাধারণত স্থিতিশীল। হোটেল ও দোকান থেকে স্থানীয় জরুরি নম্বর জেনে রাখুন।
আবাসন ব্যবস্থা
কলাতলী, লাবনী, সুগন্ধা ও সেন্ট্রাল বিচ এলাকায় প্রচুর হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস আছে। সিজনে আগাম বুকিং ভালো।
দৃষ্টি আকর্ষণ
- সৈকত পরিষ্কার রাখতে প্লাস্টিক–বর্জ্য না ফেলা।
- লাইফগার্ডের নির্দেশ মানা।
- ভিড়ের মধ্যে মূল্যবান জিনিস সতর্কভাবে রাখা।
সতর্কতা
- সমুদ্রের গভীর অংশে না নামা।
- রাতে বিচ এলাকায় সাবধান থাকা।
- শিশুদের আলাদা নজরদারি।
- ঢেউ বেশি থাকলে পানিতে নামা এড়িয়ে চলা।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
- হিমছড়ি
- ইনানী সমুদ্র সৈকত
- মেরিন ড্রাইভ
- সুগন্ধা বিচ
- কলাতলী পয়েন্ট
- ঝাউবন এলাকা
টিপস
- সূর্যাস্ত দেখার জন্য ৩০–৬০ মিনিট আগে পৌঁছান।
- সিজনে আগেই হোটেল বুকিং করে নিন।
- হাঁটার জন্য হালকা জুতা রাখুন।
- সকালে/বিকেলে ছবি সবচেয়ে ভালো আসে।
