মূলভাব
এই প্রবন্ধে লেখক যৌবনের সামাজিক ও মানসিক গুরুত্বকে কেন্দ্র করে আলোচনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, শারীরিক যৌবন কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়, বরং এটি সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যৌবনকে “রাজটিকা” দেওয়া মানে সেটিকে সংরক্ষণ এবং শাসন করা, যাতে তা সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়।
লেখক প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতকাব্যের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন, যে যৌবন শুধু ভোগ বা সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং এটি মানসিক ও নৈতিক শক্তির উৎস। উদয়ন ও সিদ্ধার্থের মতো কাহিনীর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যৌবনের ব্যবহার জীবনের উদ্দেশ্য ও নৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাল্য ও বার্ধক্যকে যৌবনের সাথে সমন্বয় করতে না পারায় জীবনের মধ্যবর্তী সময়ে ঘাটতি দেখা দেয়, যা সমাজে নৈতিক ও মানসিক ত্রুটি সৃষ্টি করে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, মনের যৌবন বা মানসিক উদ্দীপনা হলো সমাজে সত্যিকারের যৌবন প্রতিষ্ঠার মূল। ব্যক্তিগত দেহের যৌবন অস্থায়ী হলেও, সমাজের মানসিক যৌবন চিরস্থায়ী হতে পারে। লেখক মনে করেন, যৌবনের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ সমাজে নৈতিকতা, সৃষ্টিশীলতা এবং মানবিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। তাই, যৌবনকে সমগ্র সমাজের কল্যাণে, শিক্ষায়, নীতিতে এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নে স্থাপন করা দরকার।
