ব্যাঙ ও ইদুরের ঈর্ষা ও পরিণতি

ব্যাঙ ও ইদুরের গল্প | Bang O Edur | Frog and Mouse | Aesop’s Fable | ঈশপের নীতিকথা


গল্প: ব্যাঙ ও ইদুরের ঈর্ষা ও পরিণতি

সবুজ মাঠের পাশে ছিল এক ছোট পুকুর। সেখানে থাকত এক ব্যাঙ। পুকুরের ধার ঘেঁষে ছিল ইদুরের গর্ত। ইদুরটি ভাবত—ব্যাঙ শুধু পানিতে থাকে বলে নাকি নিজেকে খুব বড়ো কিছু মনে করে! আবার ব্যাঙ ভাবত—ইদুর নাকি তাকে তুচ্ছ ভাবে, কারণ জলে তার চলাফেরা দেখে ঈর্ষা হয়। এভাবেই দু’জনের মধ্যে ধীরে ধীরে তৈরি হলো অহংকার আর প্রতিযোগিতা।

একদিন ইদুর ব্যাঙকে বলল—
“চলো দেখি, কে বেশি শক্তিশালী! তুমি জলজ প্রাণী, আর আমি স্থলে দুর্দান্ত!”

ব্যাঙও রাগে বলল—
“ঠিক আছে, তবে এবার শক্তির আসল পরীক্ষা হোক!”

বুদ্ধি খাটিয়ে ব্যাঙ ইদুরকে বলল,
“আমরা একে অপরের পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখি—যেন কেউ পালাতে না পারে! তারপর দেখা যাক কে বেশি ক্ষমতাবান!”

ইদুরও উত্তেজনায় রাজি হয়ে গেল। তারা দুইজনেই নিজেদের পা এক টুকরো দড়ি দিয়ে বেঁধে নিল।

ব্যাঙের উদ্দেশ্য ছিল ইদুরকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাওয়া। তাই সুযোগ পেয়ে সে দ্রুত পুকুরে ঝাঁপ দিল। হঠাৎ টান অনুভব করে ইদুর ভয় পেয়ে চিৎকার করতে লাগল—
“ছাড়ো! ছাড়ো! আমি তো ডুবছি!”

কিন্তু ব্যাঙ ইচ্ছে করে তাকে পানির দিকে টেনে নিল। ইদুর প্রাণপণে লড়াই করতে লাগল, কিন্তু সে তো সাঁতার জানে না। একটু পরেই তার নিস্তেজ দেহ ভেসে উঠল।

ঠিক সেই সময়, আকাশ থেকে একটি বাজপাখি সব দেখছিল। নিস্তেজ ইদুরকে দেখে সে দ্রুত নেমে এল এবং ইদুরকে ধরে উড়ে যেতে লাগল। কিন্তু ইদুরের পায়ে দড়ি বাঁধা থাকায় ব্যাঙও তাতে টেনে উঠতে লাগল!
বাজপাখির থাবায় দু’জনই পড়ে গেল—একজন মৃত, আরেকজন অহংকারী ব্যাঙ।

এভাবেই ব্যাঙের ধূর্ততা ও হিংসার ফল সে নিজেই ভোগ করল।


নীতিকথা (Moral):

অন্যকে ক্ষতি করতে গেলে অনেক সময় নিজেরই ক্ষতি হয়। অন্যায় ও হিংসা শেষ পর্যন্ত নিজের ওপরই ফিরে আসে।


শেষে লিখবেন:

গল্পটি মুনশির কণ্ঠে শুনতে বা ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *