ধরন: সাধারণ শিক্ষা, শ্রেণি: তৃতীয়, অধ্যায়: অধ্যায় ৯
একবার এক জঙ্গলে শুরু হলো বিশাল গোলমাল।
এক পিঁপড়ে পিলপিল করে ছুটে গেল রাজার দরবারে। গিয়ে বলল,
“রাজামশাই, আপনি ন্যায় বিচার করুন। মুরগি আমার বাসা ভেঙে দিয়েছে!”
রাজা সঙ্গে সঙ্গে আদেশ দিলেন,
“সিপাহিরা, যাও! মুরগিটাকে ধরে নিয়ে এসো।”
মুরগিকে আনা হলো। মুরগি কককক করে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“রাজামশাই, দোষ আমার না! সাপ আমার ডিম ভেঙে ফেলেছে। ওকে ধরতে গিয়েই পিঁপড়ের বাসা ভেঙেছে। আগে সাপের বিচার করুন!”
রাজা আবার আদেশ দিলেন,
“তবে সাপকে ধরো!”
সাপকে আনা হলো। সাপ বলল,
“হরিণ খুব জোরে দৌড়েছে। ওর পা এসে আমার লেজে লেগেছে। আমি ভয় পেয়ে পালাতে গিয়ে মুরগির ডিম ভেঙে ফেলেছি। বিচার করুন হরিণের।”
হরিণকে ধরে আনা হলো। হরিণ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“সারস পাখি হঠাৎ ডানা ঝাপট দিয়েছিল, আমি ভয় পেয়ে দৌড় দিই। তাই সাপকে দেখি না—লেজে পা পড়ে যায়।”
এবার সারসকে ধরা হলো। সারস বলল,
“বুলবুলি হঠাৎ আমার মুখে এসে ঢুকে পড়ে। গলায় ঢোক লেগেছিল, তাই আমি ডানা ঝাপট দিয়েছিলাম। দোষ বুলবুলির।”
বুলবুলিকে ধরা হলো। বুলবুলি বলল,
“রাজামশাই, শোনো! ব্যাঙ আমাকে বলেছিল ‘রাতে ঝড় হবে, বাঁচতে হলে কোনো পাখির মুখে ঢুকে পড়ো’। তাই আমি সারসের মুখে ঢুকে পড়ি। ব্যাঙ মিথ্যে ভয় দেখিয়েছিল!”
রাজা বললেন,
“এইবার ব্যাঙকে ধরো!”
সিপাহিরা ব্যাঙকে ধরতে গেল। ব্যাঙ তখন গাছের নিচে লুকিয়ে ছিল। ঠিক দেখা যাচ্ছিল না, তবু তাকে খুঁজে পাওয়া গেল। রাজার আদেশে ব্যাঙের ঠ্যাং ধরে টেনে আনা হলো।
রাজা রেগে বললেন,
“ব্যাঙ, তুমি মিথ্যে কথা বলে সবাইকে ভয় দেখিয়েছ কেন?”
ব্যাঙ কেঁদে বলল,
“হুজুর, হুজুর! শহরে বড় ঝড় উঠেছে! সবাই বলছিল, দোকান বন্ধ করো, রাতটা খারাপ যাবে! আমি তো শুধু সেটাই বুলবুলিকে বলেছিলাম।”
রাজা বললেন,
“তুমি শহরের গুজব এনে বনের শান্তি নষ্ট করেছ। তোমার শান্তির প্রয়োজন!”
সেই আদেশে, সিপাহিরা ব্যাঙকে কাঁঠাল গাছের তলায় নিয়ে গেল। সেখানে বারবার চারুক (কাঁঠালের খোসা ছাড়ানোর ছুরি) চালানো হলো।
কিন্তু কাঁঠালের আঠা বারবার গিয়ে পড়ল ব্যাঙের গায়ে। তারপর থেকেই ব্যাঙের গায়ে চিটচিটে দাগ রয়ে গেল।
