ব্যাঙ ও ষাড়ের গল্প | Bang o Sharer Golpo | Frog and the Ox | ঈশপের নীতিকথা
গল্প: ব্যাঙের অহংকার ও ষাড়ের শিক্ষা
একটি খোলা মাঠের ধার ঘেঁষে ছোট্ট এক জলাশয়ে থাকত এক ব্যাঙ। সে ছিল খুবই দাম্ভিক। নিজের চেহারা ও ক্ষমতা নিয়ে তার অহংকার ছিল অদ্ভুত! জলাশয়ের পাশে যখনই কোনো প্রাণী হাঁটত, ব্যাঙ তাদের সামনে নিজের শক্তি দেখাতে চাইত।
একদিন এক বিশাল ষাঁড় জলাশয়ের কাছ দিয়ে হাঁটছিল। তার শরীর ছিল পাথরের মতো শক্ত, পা ছিল বিশাল, আর চেহারায় ছিল সামান্যও ভয় নেই। ব্যাঙটি তাকে দেখে হতবাক হয়ে গেল।
সে ভাবল—
“হায়! এত বড়ো শরীর! কিন্তু যদি অন্য ব্যাঙরা দেখে, তারা বুঝবে আমি কত ছোট!”
এই ভেবে ব্যাঙ অহংকারে ভরে উঠল। সে জলাশয়ে ফিরে গিয়ে অন্য ব্যাঙদের বলল—
“আজ এক বিশাল প্রাণীকে দেখলাম। কিন্তু সে আমার মতো শক্তিশালী নয়!”
অন্য ব্যাঙরা অবাক হয়ে বলল—
“কী বলো? সে কি তোমার চেয়েও বড়ো?”
ব্যাঙ রেগে গিয়ে বলল—
“না! আমিও চাইলে ওর মতো বড়ো হতে পারি!”
এ কথা বলে সে নিজের শরীর ফুলাতে শুরু করল। পেট বড়ো হলো, বুক ফুলল—
ব্যাঙ আবার বলল,
“এই দেখো! এখন কি ষাঁড়ের মতো লাগছে?”
ব্যাঙরা মাথা নেড়ে বলল,
“না, এখনও অনেক ছোট।”
অহংকারী ব্যাঙ আরও জোরে নিজের শরীর ফুলাতে লাগল।
“এবার? এবার তো নিশ্চয়ই ওর মতো লাগছে?”
ব্যাঙরা বলল,
“না! ষাঁড় অনেক বড়ো।”
ব্যাঙ এবার রাগে পাগল হয়ে গেল।
“আমি পারব! অবশ্যই পারব!”
সে পেট ফুলাতে ফুলাতে এতটাই মোচড় দিল যে হঠাৎ—
ফাট্!
এক মুহূর্তেই তার দেহ ফেটে গেল। অহংকারে অন্ধ হয়ে সে নিজের জীবনটাই শেষ করে ফেলল।
অন্য সব ব্যাঙ আতঙ্কে চুপ হয়ে গেল। তারা বুঝল—অহংকার মানুষকে (বা ব্যাঙকেও) ধ্বংস করে দেয়।
নীতিকথা (Moral):
অহংকার মানুষকে নিজের সীমা ভুলিয়ে দেয়। অন্যকে অনুকরণ করতে গিয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
শেষে লিখবেন:
গল্পটি মুনশির কণ্ঠে শুনতে বা ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।
