বাক্ বাক্ কুম পায়রা-রোকনুজ্জামান খান

বাক্ বাক্ কুম পায়রা
মাথায় দিয়ে টায়রা
বউ সাজবে কাল কি?
চড়বে সোনার পালকি?
পালকি চলে ভিন গাঁ-
ছয় বেহারার তিন পা।
পায়রা ডাকে বাকুম বাক্
তিন বেহারার মাথায় টাক।
বাক্ বাকুম কুম্ বাক্ বাকুম
ছয় বেহারার নামলো ঘুম।
থামলো তাদের হুকুম হাঁক
পায়রা ডাকে বাকুম্ বাক্।

ছয় বেহারা হুমড়ি খায়
পায়রা উড়ে কোথায় যায়?

রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) – সংক্ষিপ্ত জীবনী

রোকনুজ্জামান খান (১৯২৫–১৯৯৯) ছিলেন বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি “দাদাভাই” নামে সর্বাধিক পরিচিত। বাংলা শিশুসাহিত্যে তার অবদান তুলনাহীন। তার লেখায় শিশুর আনন্দ, কৌতূহল, নৈতিক শিক্ষা এবং সহজ ভাষার চমৎকার ব্যবহার পাওয়া যায়।

জন্ম

তিনি ২১ মার্চ ১৯২৫ সালে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার বৈশাখী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল জলিল খান।

শিক্ষাজীবন

রোকনুজ্জামান খান শৈশব থেকেই সাহিত্য, গল্প এবং ছড়ার প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি শুরু করেন এবং দ্রুত শিশুদের প্রিয় লেখকে পরিণত হন।

সাহিত্যিক জীবন

তিনি দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাক-এ কর্মরত ছিলেন এবং শিশুদের জন্য দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যসংকলন “কিশোর দুনিয়া” সম্পাদনা করতেন। এই “কিশোর দুনিয়া” তাকে সারাদেশের শিশুদের কাছে “দাদাভাই” নামে পরিচিত করে তোলে।

তার গল্প, ছড়া, উপকথা, কৌতুক—সবই শিশুদের সহজে বুঝতে পারা যায় এমন ভাষায় লেখা। হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা ও বুদ্ধিদীপ্ত কথন তার লেখার বড় বৈশিষ্ট্য।

প্রধান গ্রন্থ

  • কিশোর দুনিয়া (সম্পাদনা)
  • হরেক রকম গল্প
  • ছোটদের কেচ্ছা
  • দাদাভাইয়ের ছড়া
  • শিশুতোষ কাহিনি—ইত্যাদি

সম্মাননা

রোকনুজ্জামান খান বাংলা শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য

  • বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  • একুশে পদক
    সহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন।

মৃত্যু

তিনি ২৮ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরও তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যে চিরসমুজ্জ্বল নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *