টিকটিকির অদ্ভুত হাসির শব্দে ঘুম ভাঙে, চোখ কচলাতে থাকি—কুমারী বাতাস ছুঁয়ে দেয় ভোরের শরীর—জানালার ভেতর দিয়ে নীলাকাশ দর্পণ হয়ে ওঠে; আর সে দর্পণে কোয়েলের ডিমের মতন ধূসর বোমাগুলো ছবি হয়ে ভাসে; যা এখনও রোদন করে ফিলিস্তিন, আরব, বাংলাদেশ, অতঃপর বিশ্বভ্রমাণ্ডে। চিন্তারসূত্র মেনে পাঁক খায় পৃথিবীর আতঙ্কিত দুঃখেরা। অবৈধক্ষমতার ঘ্রাণ নেয়া বিধাতার পরিত্যাক্ত সন্তানেরা কাঁদতে জানে না, জানে কাঁদাতে।
মধ্যপ্রাচ্যের শরীর ছুঁয়ে রক্তের ঘ্রাণ বেদনার অনুর্বর মাঠে আমাদের জানান দেয় আমাদের নিরাপত্তার কথা—অস্তিত্বের সংকট নিয়ে ভাবে না সকালের সূর্য কিংবা রাতের চাঁদ। কেবল আমরাই ভাবি—ভাবতে হয় বলে। পেট্রোল বোমার বিকট গন্ধে ম্লান হয়ে যায় চিন্তার বিকশিত আকাশ। কে বললো, ভোরের ভিখিরিই সূর্যের দিকে চেয়ে বুঝে রূঢ় বাস্তবের ব্যঞ্জনা!
হলুদ তেলমাখা একটি সকালে সাদা চাদরের মতো কুয়াশার নিচে শুয়ে একটি বিবর্ণ স্বপন—দীর্ঘশ্বাসের ফাঁকা স্টেডিয়ামে শুয়ে এখনও স্বপ্ন দেখেছে লাল-সবুজ ডিসেম্বর মাস। খুব শীঘ্রই দিগন্তের ওপারে পাহাড় মেলে দিবে ঐশ্বর্যময়ী উরু, শান্তির পতাকা উড়িয়ে পৃথিবী হাসবে শীতের রোদ্দুরের মতন—আমরাও।
পূর্ব শিবগঞ্জ, সিলেট
০৪.০৪.২০১৫
প্রকাশিতব্য কাব্য: মুগ্ধতার জলপান
