দানবীয় ভূত (গল্প)

দানবীয় ভূত | Real Monster Ghost Story | ভূতের গল্প | Bangla Horror Story


গল্প: দানবীয় ভূত

রাত তখন ঘন অন্ধকার। গ্রামের শেষ প্রান্তে বাঁশবনের ভেতর একটা পুরোনো পরিত্যক্ত বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে বহু বছর ধরে। মানুষ বলে—ওই বাড়িতে একসময় এক জমিদার পরিবারের ভয়ংকর বিপদ ঘটেছিল, আর তারপর থেকেই নাকি সেখানে দেখা যায় এক দানবীয় ভূতকে। কেউ তাকে কাছে গেলে আর ফিরে আসে না।

শহর থেকে গবেষণা করতে চার বন্ধুর দল সেদিন গ্রামে আসে—রিদয়, সোহান, মৌরি ও তুহিন। তারা শুনেছিল ভূতের গল্পটা। রিদয় বলল—
“ভূত বলে কিছু নেই। সব কুসংস্কার।”
কিন্তু গ্রামের বৃদ্ধা মাটিরা বুড়ি বললেন—
“যেও না বাবা। ওই বাড়ির দোরগোড়ায় গেলেই যেন হাড় ঠান্ডা হয়ে আসে। ওখানে কেউ মানুষের মতো নয়… ও একটা দানব!”

তরুণরা ভয় পেলেও কৌতূহল সামলাতে পারল না। রাত সাড়ে বারোটায় তারা টর্চ হাতে বাঁশবনের পথ ধরে বাড়ির দিকে এগোতে লাগল। বাতাসে শোঁ শোঁ শব্দ, বাঁশপাতার শব্দে যেন কেউ হাঁপাচ্ছে, কান্না করছে।

বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই তীব্র গন্ধে তাদের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। দেয়ালে কুৎসিত আঁচড়, ভাঙা দরজা, আর কোণায় ঝুলে থাকা পুরোনো দোলনা। হঠাৎ দোলনাটা নিজে থেকেই দুলে উঠল—
চি… চি… চি…

মৌরি ফিসফিস করে বলল,
“কে… কেউ কি আছে?”

কেউ উত্তর দিল না, কিন্তু অন্ধকারের মধ্য থেকে ঠাণ্ডা বাতাস গা ছমছম করিয়ে দিল।

হঠাৎ উপরতলা থেকে ধপ করে একটা শব্দ হলো। ছেলে চারজন ভয় সামলে উপরে উঠল। সিঁড়ি ভাঙা, কাঠের মধ্যে কী যেন নড়ছে। ঠিক তখনই সোহানের টর্চ বন্ধ হয়ে গেল। অন্ধকারে তারা কেবল শুনতে পেল—
খররর… খররর… হাঁহহহ…

এক বিশাল ছায়া নিচের ঘর থেকে উপরের দিকে উঠছে। ছায়ার আকৃতি মানুষ নয়—অস্বাভাবিক লম্বা হাত, বাঁকা ঘাড়, জ্বলজ্বলে লাল চোখ।
তুহিন চিৎকার করে উঠল—
“দৌড়াও!”

কিন্তু দানবীয় ভূত তাদের পথ আটকে দিল। তার মুখ থেকে বের হলো মানুষের মতো শব্দ নয়, বরং গভীর গর্জন—
“এখানে কেউ বাঁচে না…”

রিদয় সাহস করে টর্চ আলো তার চোখে ফেলতেই দেখা গেল—তার মুখে মানুষের মতো দাঁত, কিন্তু ঘাড়ের নিচে পচা কালো মাংস। নিচের দিকে নখের মতো ধারালো হাত।

চারজন পিছনে দৌড়াতে লাগল। দানবীয় ছায়া তাদের পেছনে ছুটছে—মেঝের উপর নয়, যেন বাতাসে! তারা বাড়ির দরজা ঠেলে বেরিয়েই প্রাণপণে গ্রামের দিকে দৌড়াল। বাঁশবন কাঁপছে, পাতার ফাঁকে মনে হলো কেউ ফিসফিস করছে—
“ফিরে এসো… ফিরে এসো…”

গ্রামে পৌঁছানোর আগেই তুহিন চিৎকার দিয়ে পড়ে গেল। বন্ধুরা দেখল—তার পিঠে লম্বা নখের দাগ। তবে ভূত আর অনুসরণ করল না। যেন বাড়ির সীমানা পেরিয়ে সে আসতে পারে না।

পরদিন সকালে গ্রামের লোকেরা বলল—
“ওই বাড়িতে জমিদারের দুষ্ট আত্মা নয়, বরং বহু বছর আগে মৃত এক দেহরক্ষীর আত্মা ঘুরে বেড়ায়, যে প্রতিশোধ নিতে চায়। মানুষ বলে—তার দেহ পুরোপুরি পচে যাওয়ার আগেই তাকে কবর দেওয়া হয়েছিল। তাই সে দানব হয়ে ফিরেছে।”

চার বন্ধু বেঁচে গেলেও সেই রাতের ভয় কখনো ভুলতে পারেনি। আর তুহিনের পিঠের দাগ?
সেটা আজও রয়েছে—যেন দানবীয় ভূতের নীরব স্মৃতি।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *