গালিভার’স ট্রাভেলস

⭐ গালিভার’স ট্রাভেলস

(Gulliver’s Travels | Jonathan Swift | Galivers Travels | রূপকথার গল্প)

🌿 গল্প (রূপকথা-ধাঁচে পুনর্কথন)

একসময় ছিল এক সাহসী নাবিক—তার নাম লেমুয়েল গালিভার। দূর-দূরান্তের সমুদ্র ভ্রমণ করা ছিল তার নেশা। একদিন ভয়ংকর ঝড়ের কবলে পড়ে তার জাহাজ ভেঙে গেল। প্রাণে বাঁচলেও সে ভেসে এল এক অদ্ভুত দ্বীপে—নামের লিলিপুট

চোখ খুলে দেখে গালিভার অবাক—তার হাত-পা বেঁধে রেখেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানুষ! তাদের উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি। তবু তাদের রাজ্যে রয়েছে রাজা, প্রজা, আদালত, যুদ্ধ, রাজনীতি—সবই ছোট, সবই মজার! শিগগিরই গালিভার তাদের বন্ধু হয়ে উঠল। লিলিপুটদের শত্রুর বিরুদ্ধে সে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যুদ্ধ জিতে দেয়। কিন্তু রাজদরবারের ঈর্ষা ও ষড়যন্ত্র তাকে শেষে দ্বীপ ছাড়তে বাধ্য করে।

সমুদ্র পাড়ি দিতে দিতে সে পৌঁছায় আরেক অদ্ভুত রাজ্যে—ব্রবডিংনাগ। এখানে সব মানুষ দৈত্যের মতো বিশাল! উল্টো এবার গালিভার ছোট মানুষ। কিন্তু এখানকার বিশালাকার মানুষের দয়া, সরলতা আর রাজাধিরাজের জ্ঞান গভীরভাবে তাকে প্রভাবিত করে।

এরপর আরও অদ্ভুত স্থান—লাপুটা, যে দ্বীপ আকাশে ভাসে;
হুইহ্নহ্নমদের দেশ, যেখানে ঘোড়ারা সভ্য এবং মানুষ (ইয়াহু) বর্বর!
এই সব জায়গায় গালিভারের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের অহংকার, রাজনীতি, লোভ ও নৈতিক অধঃপতন সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়।

শেষে গালিভার আবার দেশে ফিরে আসে, কিন্তু তার চোখ বদলে গেছে। সে উপলব্ধি করে—
“বিশ্ব যত বড়, মানুষের মন ততই ছোট।”

⭐ নীতি

দুনিয়া যতই অদ্ভুত হোক, সত্যিকার জ্ঞান পাওয়া যায় অভিজ্ঞতায়। আর মানুষ বড় হয় অহংকার দিয়ে নয়, বিনয় দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *