জটিল বা মিশ্র বাক্যে ছােট ছােট একাধিক বাক্য থাকে একে খণ্ডবাক্য বলে। খণ্ডবাক্য প্রধানত দুই প্রকার-
১. প্রধান খণ্ডবাক্য: যে খণ্ডবাক্য অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনাে খণ্ডবাক্যের উপর নির্ভরশীল নয়, তাকে প্রধান খণ্ডবাক্য বলে।
২.আশ্রিত খণ্ড বাক্য: যে খণ্ডবাক্য অর্থ প্রকাশের জন্য প্রধান খণ্ডবাক্যের উপর নির্ভরশীল, তাকে আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
আশ্রিত খণ্ডবাক্য আবার তিন প্রকার। যথা-
ক. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য বিশেষ্য পদের কাজ করে, তাকে বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন— “আমি জানি সে কেমন লােক।” এখানে আমি “জানি” প্রধান খণ্ডবাক্য এবং “সে কেমন লােক” বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
খ. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনাে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন— “যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।” যেখানে, যখন,যেভাবে বা যেন দিয়ে বাক্য থাকলে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য পাওয়া যায়।
গ. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহূত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন— “যেখানে পদ্মা আর মেঘনা একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই মোহনা।” ক্রিয়াকে কখন, কোথায়, কিভাবে, কেন, কতটুকু দ্বারা প্রশ্ন করে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য পাওয়া যায়।
