✦ কীর্তিমানের মৃত্যু নেই
🔹 ১. মূলভাবে
“কীর্তিমানের মৃত্যু নেই” অর্থ, যে ব্যক্তি তার সৎ ও মহৎ কর্মের মাধ্যমে সমাজে চিরস্থায়ী অবদান রেখে যায়, তিনি শারীরিকভাবে মারা গেলেও তার নাম ও কীর্তি অনন্তকাল বেঁচে থাকে। শারীরিক জীবন অস্থায়ী হলেও কর্মজীবন অমর হয়।
🔹 ২. সম্প্রসারিত ভাব
ইতিহাসের পাতায় আমরা অনেক মহান ব্যক্তির কথা পাই, যাঁরা নিজেকে ত্যাগ করে মানবকল্যাণ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাঁদের দেহ মাটিতে শায়িত হলেও, তাঁদের কর্ম ও আদর্শ আজও মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।
উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যাঁর সাহিত্য ও দর্শন আজও মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, যিনি অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে চিরকাল বিদ্রোহী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন।
পশ্চিমা জগতের মহৎ নেতা মহাত্মা গান্ধী অহিংসার পথে স্বাধীনতা অর্জনের নিদর্শন স্থাপন করেছেন। মানবতার সেবায় অবিস্মরণীয় কাজ করেছেন মাদার তেরেসা, যাঁর ত্যাগ ও ভালোবাসা আজও মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে বিশাল অবদান রেখেছেন আলবার্ট আইনস্টাইন ও নিলস বোহর। তাঁদের আবিষ্কার আজ মানবজীবনের অন্যতম ভিত্তি।
দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা বিজ্ঞানী এ.পি.জে. আব্দুল কালাম তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।
এই সব কীর্তিমান ব্যক্তি কখনো নিজেদের গৌরবের খোঁজে নন, বরং তারা সমাজের কল্যাণে নিবেদিত। তাঁদের কর্ম ও আদর্শই তাঁদের সত্যিকারের অমরত্বের উৎস।
🔹 ৩. সিদ্ধান্ত
অতএব, কীর্তিমান হতে হলে মহান কর্ম করতে হবে, যেগুলো সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জাগায়।
এই কারণেই বলা হয়— “কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।”