রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ঐকতান” কবিতায় কবি বিশ্ব ও মানবজাতির প্রতি তার গভীর দৃষ্টি এবং সাহিত্যচেতনার অসীম প্রগাঢ়তা প্রকাশ করেছেন। কবি এখানে বৃহৎ পৃথিবী, অসংখ্য মানুষের কর্ম, প্রকৃতি, নদী-গিরি, মরু ও অজানা জীবের কথা উল্লেখ করে আমাদের সামনে স্থাপন করেছেন এক বিশাল দিগন্তের ছবি। তিনি অনুভব করেন যে, এই বিশাল জগতের মধ্যে তার অংশ অত্যন্ত ক্ষুদ্র, তবু সে ক্ষুদ্র অংশেও তার দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি পৌঁছাতে চায়।
কবিতায় রবীন্দ্রনাথ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মানুষের সাফল্য ও শ্রম—চাষি, তাঁতি, জেলে—সবই বিশ্বকে sustenance করে। কবি নিজেকে তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন এবং তাদের শ্রম ও সত্যিকারতার প্রতি তার শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, প্রকৃত কবিতা শুধুমাত্র কল্পিত বা কৃত্রিম নয়; বরং সেই কবিতাই মূল্যবান যা জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, মানবিক কর্ম ও প্রকৃতির সঙ্গে মিলে যায়।
কবিতায় বিশেষভাবে অখ্যাতজনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে—যারা শান্ত, নীরব, সরল ও পরিশ্রমী, যাদের দুঃখ, কষ্ট এবং আনন্দ প্রায় কেউ লক্ষ্য করে না। রবীন্দ্রনাথ তাদের মর্মস্পর্শী অবদানকে উদযাপন করতে চান এবং তাদের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি নিজের কবিতায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি এইভাবে সাহিত্য ও মানবিকতা, কাজ ও সৃষ্টিশীলতার মধ্যে এক ঐকতান (সার্বজনীন সংযোগ) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, “ঐকতান” কবিতা বিশ্ব ও মানুষের প্রতি কবির গভীর শ্রদ্ধা, অখ্যাতজনের স্বীকৃতি, প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতা এবং জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে কবিতার সংযোগকে প্রকাশ করে। এটি রবীন্দ্রনাথের মানবিক ও দার্শনিক দর্শনের একটি চিত্র, যেখানে শিল্প, প্রকৃতি ও মানবমর্যাদার মিলন দৃশ্যমান।
