⭐ উপকারী বন্ধু – কচ্ছপ, হরিণ ও কাঠঠোকরার গল্প
(রূপকথা | নীতিকথা | শিশুতোষ গল্প)
🌿 গল্প
ঘন জঙ্গলের মাঝখানে তিন বন্ধু বাস করত—এক কচ্ছপ, এক হরিণ ও এক কাঠঠোকরা। তিনজনের স্বভাব, গতি ও ক্ষমতা আলাদা হলেও বন্ধুত্ব ছিল অটুট। প্রতিদিন তারা মিলে খাবার খুঁজে বেড়াত, গল্প করত এবং বিপদে-আপদে একে অন্যকে সাহায্য করত।
একদিন দুপুরবেলা হরিণটি জল খেতে নদীর ধারে গেলে হঠাৎ শিকারির ফাঁদে পা আটকে যায়। যন্ত্রণায় লাফিয়ে উঠে সে চিৎকার করে ওঠে। দূরে থাকা কাঠঠোকরা সে আওয়াজ শুনে উড়ে এসে দেখে—হরিণটি দড়ির ফাঁদে ঝুলে আছে! সে ভয় পেলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় বন্ধুকে বাঁচাতে হবে।
কাঠঠোকরা উড়ে গিয়ে কচ্ছপকে ডাকে। ধীরগতির কচ্ছপটি যত দ্রুত পারে এসে হাজির হয়। তারা দু’জনে মিলে পরিকল্পনা করে—
কাঠঠোকরা শিকারির তাঁবুর কাছে গিয়ে জোরে জোরে ঠোকরাতে লাগল, যাতে শিকারি ভয় পেয়ে বাইরে আসে। শিকারি বের হতেই কাঠঠোকরা উড়ে গিয়ে তাকে বনজুড়ে ঘোরাতে থাকে। শিকারি যখন বিভ্রান্ত হয়ে দিক হারিয়ে ফেলে, তখন কচ্ছপ এসে হরিণের দড়ি কামড়ে-কামড়ে কেটে দেয়। কিছুক্ষণ পর হরিণটি মুক্ত হয়ে যায়।
হরিণ বলল,
— “বন্ধুরা, তোমরা না থাকলে আমি আজ বাঁচতাম না।”
কচ্ছপ হাসল,
— “বন্ধু মানেই তো বিপদে পাশে থাকা।”
কাঠঠোকরা বলল,
— “আমরা শক্তিতে আলাদা, কিন্তু এক হলে আমাদের মতো শক্তি আর কারো নেই।”
সেদিন তিন বন্ধু প্রতিজ্ঞা করল—
যে কোনো বিপদে তারা একে অন্যের পাশে থাকবে।
⭐ নীতি
একতা ও বন্ধুত্বের শক্তি যেকোনো বিপদকে পরাস্ত করতে পারে।
